শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

গুণগত শিক্ষা বলতে কী বুঝি এবং কেনই বা প্রয়োজন

সাহানাজ পারভীন -বরিশাল, বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৪৯, ২৭ আগস্ট ২০২৩

আপডেট: ১৫:৪৬, ২৯ আগস্ট ২০২৩

গুণগত শিক্ষা বলতে কী বুঝি এবং কেনই বা প্রয়োজন

ছবি- সংগৃহীত

বাংলাদেশকে একটি স্হিতিশীল কল্যাণমুখী উন্নত রাষ্ট্রে পরিণিত করতে হলে জনশক্তি উন্নয়ন অপরিহার্য।এজন্য শিক্ষার  গুণগত পরিবর্তন করা আবশ্যাক। এ লক্ষ্যে শিক্ষার পরিমাণগত দিকের চেয়ে  গুণগত মানের দিকের অধিক নজর দিতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন উপাদানের  গুণগত পরিবর্তন সাধন করতে হবে।গুনগত শিক্ষা একুশ শতকের একটি অন্যতম চাওয়া।

গুণগত শিক্ষা এমন একটি পরিকল্পিত ব্যবস্হা যার উদ্দেশ্য হলো সামগ্রিকভাবে শিক্ষার্থীকে সাহায্য করা যেন শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্ণ সম্ভাবনার বিকাশ ঘটিয়ে সমাজে জন্য একজন পূর্ণাঙ্গ ও উৎপাদনশীল নাগরিক হয়ে ওঠে। তাই শিক্ষায় এমন ব্যবস্থা করতে হবে যেন প্রতিটি শিশু  স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং  স্কুলের লব্ধ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের জন্য উৎপাদনশীল নাগরিক হয়ে উঠতে পারে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষার ব্যপক প্রসারের পাশাপাশি শিক্ষার  সুনিশ্চিত করে সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করা মানুষের অন্যতম কর্তব্য ও দায়িত্ব। বাংলাদেশকে ২০৩০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা অর্জন করতে হবে। এই সকল লক্ষ্য মাত্রা অর্জন করতে  গুণগত শিক্ষার বিকল্প নেই। আমাদের সামাজিক জীবনে শিক্ষার আকাঙ্খা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেলেও এর  গুণগত মান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ যোগ্য ও নৈক্তিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব, পিতা-মাতার উদাসীনতা, সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া, মাদকাসক্তি, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ,প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ইত্যাদি বিষয় গুলো প্রতিদিন দৃশ্যমান, যা  গুণগত শিক্ষা অর্জনকে বাধাগ্রস্থ করছে।এভাবে চলতে থাকলে সরকারের গৃহীত ২০২১ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশ, ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়নলক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ২০৪১সালে উন্নত রাষ্ট্র এবং ২১০০ সালে ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়বে।

গুণগত শিক্ষার ধারণা
গুণগত শিক্ষা এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে প্রতিটি শিশুর বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের যোগান থাকবে।প্রতিটি শিশু একটি  স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ করবে, উন্নত জীবনের চর্চা করবে। শিখন পরিবেশ হবে ভীতিহীন। শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে শিখন-শেখানো কাজে অংশ গ্রহণ করবে ও উচ্চতর শিক্ষার জন্য প্রস্তুত হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ও বৃহত্তর সমাজের কাজের সম্পৃক্ত হতে শিখবে।যোগ্যও দক্ষ শিক্ষকের সংস্পর্শে শিক্ষার্থীরা আত্মবিকাশের সুযোগ পাবে। তারা কর্মজীবনের জন্য তৈরি হবে এবং বৈশ্বিক পরিবেশে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

গুণগত শিক্ষা হবে একীভূত যেখানে সকল ধরনের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। এখানে সাধারণ শিক্ষার্থীর সাথে অতি মেধাবী, ক্ষীণ বুদ্ধি, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থী, পথশিশু, শ্রমজীবী শিশু, দলিত জনগোষ্ঠি যেমন পড়তে পারবে তেমনি বিভিন্ন জাতি, বর্ণ, ভাষা, সংস্কৃতির মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিখন পরিচালিত হবে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা গুলোকে টেকসই রূপদানের লক্ষ্যে ২০১৬-২০৩০ মেয়াদে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ ̈মাত্রা (এসডিজি) ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণাপত্রের ৪ নং লক্ষ্যে গুণগত শিক্ষার বিশেষ জোর দিয়ে বলা হয়েছে,To ensure inclusive and equitable quality education and promote lifelong
learning.

‘শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড’ এ কথাটি শ্বাশত ও চিরন্তন। প্রশ্ন হলো, এক্ষেত্রে  গুণগত শিক্ষার সংজ্ঞা সুনির্দিষ্টকরণ হয়েছে কি না? শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো দেশের জনগোষ্ঠীকে তাদের কৌতূহলী প্রশ্নের সমাধান করার সক্ষমতা অর্জন করার উপযোগী করে তোলা, আর  গুণগত শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো, জনগোষ্ঠীকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জনসম্পদে পরিণত করা।  গুণগত শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি তার সমাজ ও দেশের সম্পদে পরিণত হয়, তার চিন্তা-চেতনায়, কর্মে বিশ্বমানের পরিবর্তন আসে।তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হয়ে আচরণে কাঙ্খিত পরিবর্তন ঘটে, প্রতিকূল পরিস্তিতি মোকাবেলা করে নিজের ও সমাজের উন্নয়নে নিজেকে সক্ষম করে তোলে, ফলে সে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যায়, প্রয়োজনে নিজেকে বদলাতে শেখে, বাঁচতে শেখে, বাঁচাতে শেখে, ভালো মানুষ হতে শেখে, শিখে নেয় কীভাবে প্রতিকূলতার সাথে নিজেদেরকে খাপ খাইয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। এ শিক্ষা শুরু হয় তার জম্ম থেকেএবং তা চলে আমৃত্যু।

গুণগত শিক্ষা বিষয়টি কেবল শিক্ষক, বিদ্যালয়, পুস্তক, শিক্ষার্থী বা শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বা তা কোনো পদ্ধতিগত উপাদানও নয়। কারণ  গুণগত শিক্ষাকে সামগ্রিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়; যার সাথে বিদ্যালয়ের কর্মতৎপরতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গুণগত শিক্ষা শিক্ষার্থীদেরকে।‌ন্যায়বোধ,কর্তব্যপরায়ণতা, শৃঙ্খলা, আচরণবিধি, ধর্মনিরপেক্ষতা, বন্ধুত্বর্পূণ মনোভাব, সহাবস্থান, অনুসন্ধিৎসু,দেশপ্রেমিক, দেশের অতীত ও বর্তমান ইতিহাস, দেশের  গুণীজন ও সাধারণ জনগণের প্রতি ভালোবাসাবোধ,দায়বদ্ধতা, অধ্যাবসায়সহ নৈক্তিক ও আধ্যাত্মিক অন্তর্নিহিত  গুণ উন্মোচনে সহায়তা করে। এটি শিশুদের কুসংস্কার থেকে বিজ্ঞানমনস্কও সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করে। অধিকন্তু, এটি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে, আর শিক্ষার্থীদের সঠিক দক্ষতা ও প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জনের মধ্যদিয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের দিকে ধাবিত করে। শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, জীবন দক্ষতার উন্নয়ন, দৃষ্টিভঙ্গির গুণগত পরিবর্তন এবং সামাজিকভাবে সচেতন করে তোলাসহ পরবর্তী ধাপের শিক্ষা গ্রহণের উপযোগী করে তোলে(জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০)।

গুণগত শিক্ষার প্রতিফলনই সমাজের অন্ধকার দিক গুলো যথা- মাদক সেবন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, ইভটিজিং,বাল্যবিবাহের অভিশাপ, লিঙ্গ বৈষম্য সাম্প্রদায়িক মনোভাব, খাদ্যেভেজাল, সাইবার অপরাধ ইত্যাদি অনাকাঙ্খিক্ষত অভ্যাস ও কার্যক্রম থেকে শিক্ষার্থীদের বিরত রেখে একটি সুষ্ঠু সমাজব্যাবস্থা গড়ে তুলতে পারে।গুণগত শিক্ষাই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে উৎপাদনশীল, সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈক্তিকতা সম্পন্ন মানব তৈরি করে, ন্যায়বিচার, বৈষম ̈হীন সমাজ ব্যাবস্থা গঠন, সততা, নিষ্ঠা, সহযোগিতা ও সহনশীল মনোভাব তৈরির পরিবেশ নিশ্চিত করে। সুশিক্ষাই শারীরিক সুস্থ্যতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে তরান্বিত করে সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রধান উপায় হচ্ছে মানসম্মত বা মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ।গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে নিম্নবর্ণিত কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে-

গুণগত শিক্ষার উপাদান
গুণগত শিক্ষা একটি প্রক্রিয়া যেখানে রয়েছে বিভিন্ন রকমের উপাদান। এই উপাদান গুলোর  গুণগত মানের ওপর  গুণগত শিক্ষা ক্রিয়া নির্ভরশীল। কোনো একটি মানসম্মত উপাদান সরবরাহ করলেই সমগ্র পক্রিয়া গুণগত হয়ে যাবে এমন নয়। এই পক্রিয়ার প্রতিটি উপাদান যথাসম্ভব মানসম্মত হতে হবে। এ উপাদান গুলো হলো-
- মানসম্মত শিক্ষকের পর্যাপ্ততা
- যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন
-মানসম্মত শিখন সামগ্রী ব্যবহার
-শিখন-শেখানো পদ্ধতির ও কৌশলের কার্যকর ব্যবহার
- নিরাপদ ও সহযোগিতামূলক শিখন পরিবেশ
- উপযুক্ত মূল্যায়ন ব্যবস্থা
- প্রাতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তার ও কর্মচারীর সুসম্পর্ক
- শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সুবিধা
- দেশ ও বিদেশে শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা

শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক সম্পর্ক
গুণগত শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক সুসম্পর্ক অত্যন্ত  গুরুত্বপূর্ণ। একবিংশ শতাব্দীতে ফলপ্রসূ শিক্ষার ব্যাপারে যে ৪নং এর কথা বলা হয়, তার যথাযথ ফলাফল পেতে হলে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক হতে হবে অত্যন্ত সুনিবিড়। ছাত্রদের মধ্যে সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের এবং নেতৃত্বদানের  গুণাবলী ফুটে উঠবে তখনই, যখন তার চিন্তা জগতে সঠিকভাবে আঘাত করা সম্ভব। এখন ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক কোনো মতেই প্রভু-ভৃত্যের মতো হতে পারবে না।

কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা
কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা অর্জনই পধকৃত অর্থে  গুণগত শিক্ষা। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এ বলা হয়েছে,দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সাধনের জন্যশিক্ষাকে সৃজনশীল ও প্রয়োগমুখী করে তুলতে হবে।শিক্ষার্থীদেরকে শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আগ্রহী এবং শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বৃত্তিমূলক শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনে সামর্থবান করে তুলতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো যে সকল বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি দিচ্ছে, পরবর্তীকালে বাস্তব জীবনে তা কতটুকু কাজে লাগাতে পারছে, তা ভাববার দরকার রয়েছে। উচ্চশিক্ষা নেবার পর তাদের মধ্যেমে উচ্চ আকাঙ্খা তৈরি হচ্ছে, তা যখন তারা পূরণ করতে পারছে না, তখন তাদের মধ্যে একটি হতাশার জন্ম দিচ্ছে। দিন দিন আমাদের প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থা হতাশাগ্রস্ত যুবক-যুবতি বৃদ্ধি করে চলেছে। ফলে এসব হতাশাগ্রস্ত জনগণ অনেক সময় বিপথে যাচ্ছে, সমাজে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। কিন্ত আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা  যদি শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দক্ষ জনবল তৈরি করতে সক্ষম হতো তবে আমরা খুব অল্প সময়ের মধে ̈ই আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারতাম। তবে সম্প্রতি শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষায় লেখাপড়া করতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। কৃষি কাজ, পশুপালন, মৃৎশিল্প, তাঁত শিল্প, মৎস্য শিল্প, ইত্যাদি যে ছোট কাজ নয় তা শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই আমাদের বাচ্চাদের শেখাতে হবে। জাপানি একটি প্রবাদ রয়েছে, ‘‘তুমি আমাকে একটি মাছ দিলে মানে তুমি আমাকে এক বেলা মাছ খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলে। কিন্তু তুমি আমাকে মাছ ধরার কৌশল শেখালে মানে তুমি আমাকে সারাজীবন মাছ খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলে।’’

শিক্ষার গুণগত মানন্নোয়নে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচী
বাংলাদেশের শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এসকল উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার পরিমাণগত ও গুণগত মান বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। এমন কিছু উদ্যোগ বা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-

- প্রথম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-  (১৯৯৭)
- দ্বিতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-(২০০৫)
- মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প- (১৯৯০)
- ফিমেল সেকেন্ডারি  স্কুল ।‌আ্যসিসটেন্স প্রজেক্ট- (১৯৯৪)
-প্রোগ্রাম ফর মোটিভেট, ট্রেইন আ্যন্ড এমপ্লয় ফিমেল টিচার ইন রুরাল সেকেন্ডারি  স্কুল-(১৯৯৭)
 -মাধ্যমিক শিক্ষা খাত উন্নয়ন প্রকল্প- (১৯৯৮)
-ফিমেল  স্কুল আ্যসিসট্যন্স প্রজেক্ট- দ্বিতীয় পর্যায় (২০০১)
- টিচিং কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রজেক্ট- (২০০৫)
- সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি আ্যন্ড একসেস এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট- (২০০৮)
- টিচিং কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রজেক্ট--দ্বিতীয় পর্যায় (২০১২)
-হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট

শিক্ষার  গুণগত মান নিশ্চিতকরণে প্রতিবন্ধকতা
একুশ শতকের বিশ্বে  গুণগত শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। তবে এই শিক্ষা প্রদানে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।এগুলো হলো-
- মানসম্মত শিক্ষকের অভাব
- শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা
- শিক্ষার সাথে কর্মের দুরত্ব
- ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়ন ব্যবস্থা
- শিক্ষা বাজেটের অপ্রতুলতা
- শিক্ষাঙ্গানে অপরাজনীতির বিস্তার
- প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং সেন্টার
- অপর্যাপ্ত অবকাঠামো।

এসকল প্রতিবন্ধকতা গুলো দূর করে  গুণগত শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তখন শিক্ষা হবে গুণগত ও টেকসই।শিক্ষার  গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত প্রধান উদ্যোগসমূহ-
- মাধ্যমিক পর্যায়ে  স্কুলভিত্তিক মূল্যায়ন
- মাধ্যমিক পর্যায়ে পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কারণ
- বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাবস্থাপনা কমিটি/গভর্নিং বডি পূর্ণঃপ্রতিষ্ঠা।
- শ্রেণিকক্ষে পাঠদান মনিটরিং এর জন্য কমিটি গঠন
- শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদারকরণ
- মাদ্রাসা এবং কারিগরিসহ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বছরের ১ম দিনে বই বিতরণ
- মাধ্যমিক পর্যায়ের সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলাম আধুনিকায়ন
- বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর সুবিধা এবং কল্যাণ ফান্ড প্রদান
- ২৯টি বিদেশি ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্হাপন
-মাদ্রাসাসহ মাদ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০০০০ কম্পিউটার বিতরণ
- ২৩ হাজার ৩৩১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম  স্থাপন
- মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান
- মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান
 শিক্ষকদের সৃজনশীল পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণ প্রদান।

পরিশেষে বলা যায় যে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সরকার উপরোল্লিখিত কয়েকটি বিষয়ে জিরো টলারেন্স প্রর্দশন করছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০১২ ও জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০১০ এর আলোকেও দেশে গণমুখী, সর্বজনীন, সুপরিকল্পিত, বিজ্ঞানমনস্ক নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলার নির্দেশনা রয়েছে। জাতীয় উন্নয়ন ও শিক্ষা উন্নয়ন দুটি শব্দ হলেও তা পরস্পর একই সূত্রে গাঁথা। এদেশে এ নিয়ে শত বছরে অনেক সভা, সমাবেশ, সেমিনার, সম্মেলন হয়েছে। পরিবর্তনশীল বিশ্ব প্রেক্ষাপটে উন্নত জাতি হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে আমাদের জাতীয় উন্নয়নকে আরও বেগবান করা এখন সময়ের দাবি। এ দাবি মেটাতে উন্নয়নের হাতিয়ার হলো সুদক্ষ মানবসম্পদ। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর  স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ব এবং এই দেশের ৩৪ কোটি দক্ষ ও কর্মঠ হাত একসাথে কাজ করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে বেগবান করবে এটাই হলো গুণগত শিক্ষা অর্জনের মূল উদ্দেশ্য।

সাহানাজ পারভীন -বরিশাল, বাংলাদেশ