শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, আষাঢ় ২৮ ১৪৩১

পদ্ম পাতার জল

অংশুমালী বর্মন

প্রকাশিত: ২২:২০, ৪ জুলাই ২০২৪

পদ্ম পাতার জল

ছবি- সংগৃহীত

তোমার ওড়না ছাড়া বুক দেখতে আমার ভালো লাগে।

কথার কি ছিরি।

যা সত্যি, তা বলছি।

পলাশের কথায় একটু লজ্জিত হয় শীলা। মাথা নিচু করে নখে নখ খুটতে থাকে সে।

তখন দুপুর।

এই নির্জন পার্কে কেবল প্রেমিক প্রেমিকা জুটি এখানে ওখানে বসে আছে। তেমনি একটি লিচু গাছের নিচে বাঁধানো সিমেন্টের লম্বা চেয়ারে বসেছে পলাশ আর শীলা।

আকাশে মেঘ নেই। রোদে ভ্যাপসা গরম বাড়ছে। কাছের একটি জাম গাছের ডালে বসে একটি দোয়েল ডাকছে। দুপুরের ক্লান্তিকে দূর করতে সে তার সুমধুর কন্ঠ সুধা ঢেলে দিচ্ছে যেন।

পলাশ আর শীলার মাঝে ভালোলাগা ভালোবাসার সম্পর্ক বেশ কিছুদিন হলো। শীলা ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। পলাশ অনার্সে।

শীলা পলাশকে বলে, আমাদের বাড়িতে আমাদের এ সম্পর্ককে মানবে না।

পলাশ বলল, জানি। তোমাদের সমাজ আমাদের প্রেমকে স্বীকৃতি দিবে না। তখন তুমি কি করবে শীলা?

জানি না।

তুমি যদি না জানো। আমিও যদি না জানি, তাহলে আমাদের সম্পর্কের ভবিষ্যত কি?

পলাশ তুমি তো জানো, আমার কাকাতো জেঠাতো যত বোন আছে আমাদের চক্রবর্তীদের মধ্যে ছাড়া বিয়ে হয় নি।

পলাশ বলে, তাহলে?

শীলা পলাশকে আঁকড়ে ধরে পলাশের কাঁধে মাথা রেখে বলল, আমি তোমার পলাশ।

আমাকে তুমি যেভাবে রাখবে, আমি সেভাবে থাকবো।

পলাশ শীলার কোমল শরীরের পেলবতা অনুভব করে। সে ভুলে যায় ভূত ভবিষ্যৎ। কেবল তার মনে হয়, এ আমার। এ আমার ছাড়া আর কারো কখনো কোনদিন হতে পারে না। এখানে সমাজ-সংস্কার, বর্ণপ্রথা, রীতি নিয়ম সব তুচ্ছ।

চার বছর পর।

আষাঢ়ের অপরাহ্ন। পলাশ তার স্ত্রী সুনয়নাকে নিয়ে মন্দির পাড়ায় রথযাত্রা দেখতে যায়। রথের মেলায় অনেক ভিড়। রথের দড়ি স্পর্শ করে মাথা নত করে জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা মহারানীর চরণে দূর থেকে প্রণাম জানায় পলাশ। বেলা গড়িয়ে পড়ছে। বাড়ির পথে হাঁটতে থাকে পলাশ আর সুনয়না। ভিড় ঠেলে এক অপরিচিত ভদ্রলোক তার স্ত্রীকে হাত ধরে নিয়ে আসে পলাশদের সামনে। পলাশ সেই মহিলার দিকে তাকাতে চমকে যায়। এ যে শীলা। লাল পেরে শাড়িতে শীলাকে অপরূপ লাগে। ভিড়ের কারণে শীলা হয়তো পলাশকে খেয়াল করে নি। সে তার স্বামীর সাথে এগিয়ে যায়। পলাশও তার স্ত্রী সুনয়নাকে নিয়ে সামনে এগোয়। এখন কেউ কারো দিকে তাকানোর ফুসরত পায় না। একটু অন্যমনস্ক হলেই ভিড়ের ঠেলাঠেলিতে পা মাড়িয়ে দিবে। এখন নিজেকে নিয়ে সবাই ব্যস্ত। তাদের মননে মস্তিষ্কে কেবলি এগিয়ে যাওয়ার ভাবনা। তখন গোধূলির শেষ, আবির রংয়ের আলো আকাশের গায়ে শেষবারের মতো জ্বলজ্বল করছে আর ধীরে ধীরে মিশে যাচ্ছে সূর্য দৃষ্টি সীমানার ওপাড়ে।