শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪, আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

মনে করিয়ে দেয় হিরোশিমা দিবসের কথা

পি আর প্ল্যাসিড

প্রকাশিত: ০৮:৩৮, ৬ আগস্ট ২০২২

আপডেট: ০৮:৪৫, ১৯ আগস্ট ২০২২

মনে করিয়ে দেয় হিরোশিমা দিবসের কথা

ছবি:সংগৃহীত

৬ই আগষ্ট ১৯৪৫ সাল, সকাল ৮ টা বেজে ১৫ মিনিট।

পৃথিবীর বুকে ঘটানো হলো ন্যাক্কার জনক এক ঘটনা। সেই ইতিহাস সবারই জানা। বিষ্ফোরণ ঘটানো হয়েছিলো প্রথম আনবিক বোমার। স্থানটি ছিল জাপানের হিরোশিমা শহর। ভূ-পৃষ্ঠ হতে ৯৬০০ মিটার উপর থেকে আমেরিকার যুদ্ধ বিমান পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই এই বোমা নিক্ষোপ করলে সাথে সাথে ঘটনাস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বোমাটি নিক্ষেপ করার পর ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৬০০ মিটার উপরেই বিষ্ফোরিত হয়।

বোমার তেজষ্ক্রিয়তা এতোটাই বেশি ছিল যে বিষ্ফোরিত হবার তিন সেকেন্ডের মধ্যে ভূমিতে বিশাল প্রভাব ঘটে। বোমা বিষ্ফোরণের ফলে এই শহরের তাপমাত্রা হয়েছিল ৩ থেকে ৪ হাজার সেন্টিগ্রেড ডিগ্রী। আর বিষ্ফোরণের তাপমাত্রা ছিল ১ মিলিয়ন সেন্টিগ্রেড ডিগ্রী। যে কারণে এতো বেশি তাপমাত্রার কারণে পুরো শহর ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়ে গিয়েছিল।

১৯৪৫ সালের ডিসেম্বর মাসের এক হিসেবে দেখা যায় এই বোমা বিষ্ফোরনের ফলে ১,৪০,০০০ জন মানুষ মারা যায়। আর এতে জখম হওয়া আরো মানুষ পরেও মারা গেছে। শুধু তাই নয়, বোমার প্রতিক্রিয়ায় ঘটনার অনেক বছর পর পর্যন্ত সেখানকার মানুষ জন নানা রোগ জীবানুতে ভুগেছে। এমনকি অনেক বছর পর্যন্ত মানুষ সন্তান প্রসব করলে তারাও সেই বোমার প্রভাবে জড়িত ছিল।

এই ঘটনার পর পৃথিবীর বুকে আর এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই আবেদন করে আসছিল অনেকেই আবেদন করে আসছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। পৃথিবীর বড় বড় শক্তিধর দেশ গুলো মুখে মানবতার কথা বললেও তারাই নতুন নতুন অস্ত্র তৈরী করে সেগুলোর ব্যবসা করছে জমজমাট। ধ্বংস করার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠছে প্রতি নিয়ত। সম্প্রতি রাশিয়ার যুদ্ধে জড়ানো তারই ধারাবাহিকতা।

৬ আগষ্ট আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আর যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা। তাই মনে প্রাণে চাই পৃথিবীতে যুদ্ধ বন্ধ হোক। শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক পৃথিবীর বুকে।

মানুষের জন্ম হয় আর একারণেই প্রতিটি মানুষের মৃত্যুও অবধারিত। সুতরাং মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল দেশের মানুষদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।